Connect with us

চর্চা

‘বিজয়া’তে স্বস্তিকা নিজেই নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছেন

Published

on

জন্ম: ১৩ ডিসেম্বর ১৯৮০

কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত

জীবন সঙ্গী: প্রমিত সেন (বিচ্ছেদ, ২০০৭)

হইচই প্ল্যাটফর্মে সদ্য মুক্তি পেয়েছে ওয়েব সিরিজ ‘বিজয়া’। পরিচালনায় সায়ন্তন ঘোষাল। ছবির মুখ্য চরিত্র, ‘বিজয়া’। সেই চরিত্রে অভিনয় করেছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। ‘বিজয়া’তে স্বস্তিকা নিজেই নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছেন। কিছু দিন আগের ঘটনা। কলকাতার এক নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে ভয়ঙ্কর ভাবে নিপীড়ন করা হয়েছিল। যার ফলে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তৈরি হয়েছে ‘বিজয়া’।

কেমন হয়েছে ‘বিজয়া’

নৈহাটির এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার। নীলাঞ্জন এবং তার মা বিজয়াকে নিয়ে এই পরিবার। নীলাঞ্জন মেধাবী ছাত্র। বিজয়ার স্বপ্ন, ছেলে কলকাতার কলেজে পড়াশোনা করুক। কিন্তু নীলাঞ্জন তা চায় না। সে চায়, নৈহাটির কোন কলেজে পড়তে। সে মাকে ছেড়ে থাকতে চায় না। ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছে। তারপর থেকে বিজয়া তাকে বড় করেছেন। সে কলকাতায় চলে গেলে বিজয়া একলা হয়ে যাবে। নীলাঞ্জন মায়ের সঙ্গে তর্ক জুড়ে দেয়। মাকে বলে, নৈহাটিতে কি ভালো কলেজ নেই?

আরও পড়ুন: মধুবালাকে সবাই প্রাচ্যের Marilyn Monroe বলে জানত তাঁর আসল নাম বেবি মমতাজ মধুবালা নাম রেখেছিলেন দেবিকা

শেষ পর্যন্ত অবশ্য মায়ের কাছে নীলাঞ্জনকে হার মানতে হয়। বিজয়া তিলতিল করে, লক্ষীর ভাঁড়ে টাকা জমিয়েছেন। কলকাতার কলেজে ভর্তির জন্য, সেই লক্ষীর ভাঁড় ভেঙে, জমানো টাকা, তুলে দেন ছেলের হাতে। কলেজে ভর্তির পরে মাত্র কয়েক দিন কেটেছে। স্থানীয় থানা থেকে বিজয়ার কাছে ফোন আসে। পুলিস জানায় নীলাঞ্জন হস্টেলের তিন তলা থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত। হাসপাতালে ভর্তি। পুলিস বিজয়াকে কলকাতায় আসতে বলে।

‘বিজয়া’তে স্বস্তিকা কেমন অভিনয় করলেন

বাধ্য হয়ে, বিজয়া কলকাতায় আসেন। কিন্তু এ শহর যেন কেমন। এখানে কেউ কারও জন্য নয়। এখানে মানুষ ভীষণ স্বার্থপর। নীলাঞ্জনের পড়ে যাওয়াকে, পুলিস আত্মহত্যা বলে চালাতে চায়। বিজয়াকে উল্টে প্রশ্ন করে, নীলাঞ্জন কারও সঙ্গে সম্পর্কে ছিল না তো?  কিন্তু বিজয়া, পুলিসের বক্তব্য মানতে নারাজ। বিজয়া জোর দিয়ে বলেন, নীলাঞ্জন এমন করতে পারে না। বিজয়ার মনে সন্দেহ জাগে। যত দিন যায়, সন্দেহ পোক্ত হয়। পুলিস যা বলছে, তা কিছুতেই সত্যি হতে পারে না। সত্যিটা তাহলে কি?

দেখুন ‘বিজয়া’ বাংলা ওয়েব সিরিজ শুধুমাত্র হইচই তে

এর আগে, স্বস্তিকা মায়ের চরিত্রে অনেক অভিনয় করেছেন। কিন্তু এবার ‘বিজয়া’র ভূমিকায়, স্বস্তিকা আগের সব অভিনয়কে ছাপিয়ে গিয়েছেন। মায়ের মমতা আর সারল্যের সঙ্গে তীব্র মনের জোর আর প্রতিবাদ জানানোর ইচ্ছা, দর্শকদের ভালো লাগবে। সিরিজে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি দক্ষ অভিনেতা। সাহেবকে সচরাচর এমন চরিত্রে দেখা যায় না। কিন্তু বলতে দ্বিধা নেই, চরিত্রটি সাহেব নিপুণ দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন।

Continue Reading

চর্চা

ফুটবল নিয়ে সিনেমা খেলাকে ছাপিয়ে আসলে স্বাধীনতার জন্য লড়াই

Published

on

প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত একটা আস্ত সিনেমা ফুটবল নিয়ে। আসলে কিন্তু ছবিটা নিছক ফুটবল নিয়ে নয়। ফুটবল নিয়ে সিনেমা খেলাকে ছাপিয়ে আসলে স্বাধীনতার জন্য লড়াই। যে লড়াইয়ের মধ্যে মিশে আছে বাঙালির নব জাগরণ। বাঙালির আবেগ। আছে তার সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখার লড়াই। এ ছবি ইতিহাসকে পুনরায় জাগ্রত করার ছবি। ছবির নাম গোলন্দাজ। গোরা সাহেবরা বাঙালিকে তাচ্ছিল্য করত। মানুষ বলে মনে করত না। ফুটবল ঘিরে এ ছবি, সেই তাচ্ছিল্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ছবি।

ছবির পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিশেষ ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। প্রযোজনায় এসভিএফ। হলফ করে বলা যায়, বাংলায় এর আগে খেলা নিয়ে এমন নিটোল ছবি আগে কোন দিন হয়নি। উনিশ শতকের কলকাতা উঠে এসেছে পরতে পরতে।

গোলন্দাজ ছবির গল্প কি নিয়ে

শিক্ষিত এবং রুচিশীল সর্বাধিকারী পরিবারের ছেলে নগেন্দ্রপ্রসাদ। প্রতিবাদ এই পরিবারের রক্তে। মায়ের সঙ্গে গঙ্গা স্নানে যাওয়ার পথে চোখে পড়ে, সাহেবরা ফুটবল খেলছে। প্রথম দর্শনে ফুটবল ভালো লেগে যায়। বড় হয় নগেন্দ্রপ্রসাদ। চোখে পড়ে বাঙালিদের প্রতি ইংরেজদের তীব্র ঘৃণা। তারা মনে করে ফুটবল তাদের খেলা। বাঙালির অধিকার নেই ফুটবল খেলার। সাহেবদের কাছে পিঠে দেখলে, দুর্বল বাঙালি পিঠটান দেয়। যত দিন যায়, নগেন্দ্রপ্রসাদ আরও বেশি করে ফুটবলকে আঁকড়ে ধরেন। খুব ইচ্ছে একটা দল গড়ে, অহংকারী ইংরেজকে তাদেরই খেলায় হারিয়ে দেবেন। লেগে পড়েন দল গড়তে। তাঁর এই প্রবল ইচ্ছে তাঁকে ক্রমশ ইংরেজদের চক্ষুশূল করে তোলে। কিন্তু নগেন্দ্রপ্রসাদ যে কিংবদন্তী। তাঁর হাতে যে নতুন ইতিহাস গড়ার সব কিছু রসদ মজুদ।

পড়ুন : প্রধান বনাম প্রধান লড়াইয়ে জিতল কে দেব কি পারলেন

নগেন্দ্রপ্রসাদ সম্পর্কে বাঙালি কখনই খুব বেশি জানত না।  তাঁর সাহসিকতা, তাঁর বিপ্লব, তাঁর নেতৃত্ব সব কিছু, সেই সময়ের তুলনায় ছিল অনেক এগিয়ে। ফুটবলের প্রতি তাঁর অনুরাগ এবং ত্যাগ কখনই প্রচারের আলো পায়নি। বাঙালি যদি তাঁর নাম না জানে, সেটা যেমন দুর্ভাগ্যের, তেমনই লজ্জার। নগেন্দ্রপ্রসাদ এক প্রকার বাংলা তথা ভারতীয় ফুটবলের জনক। তিনিই বুঝেছিলেন, ভালো ফুটবল খেলতে চাই সঠিক পরিকাঠামো। দরকার নিয়মিত অনুশীলন। একটা সংগঠিত দলেরও খুব দরকার।

ইতিহাস গড়েছিলেন নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী

ওয়েলিংটন ক্লাবের জন্ম নগেন্দ্রর হাতে। তাঁবু পড়েছিল একেবারে ইংরেজদের তাঁবুর পাশে। ক্লাব পরিচালন সমিতিতে মতানৈক্যের কারণে, নগেন্দ্র ওয়েলিংটন ক্লাব ছেড়ে দেন। বিবাহ হয়ে যায়। শ্বশুরের সহযোগিতায় ১৮৮৭ সালে নব জাগরিত হয় শোভাবাজার ক্লাব। শুরুর দিকে শুধু হার। কিন্তু নগেন্দ্র হার মানার পাত্র ছিলেন না। ১৮৯২ সালে একটি প্রতিযোগিতার ফাইনালে, শক্তিশালী ইংরেজ ক্লাবকে হারিয়ে দেয় শোভাবাজার। বাঙালি অনুভব করে, লেগে থাকলে তারাও জিততে পারে। ১৯১১ সালের আগে মোহনবাগানের আই এফ এ শিল্ড জয়ের প্রায় কুড়ি বছর আগে এই ছিল কোন বাঙালি ক্লাবের দারুণ এক সাফল্য।

আরও পড়ুন : ‘বিজয়া’তে স্বস্তিকা নিজেই নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছেন

বাঙালির ফুটবল ইতিহাসকে ঘটনার পরম্পরায় ‘গোলন্দাজ’ ছবিতে দারুণ ভাবে মিশিয়েছেন পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। সারা ছবি জুড়ে দর্শক দেখে সময়ের এক দীর্ঘ সফর। ছবির মধ্যে বিশেষ মুহূর্তে নগেন্দ্রর ভূমিকায় দেব গর্জে ওঠেন “মরে যাব, কিন্তু হেরে ফিরব না”।  ইংরেজদের সঙ্গে খেলা মানে আকাশকুসুম স্বপ্ন। তাদের মাঠে বাঙালিকে খেলতে দেখলে, চাবুক খেতে হত। সেখানে নগেন্দ্র, সবুজ ঘাসে ফুটবলে খেলে জয় এনে দিয়েছেন। এখানেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব।

‘গোলন্দাজ’ ছবির এক বড় আকর্ষণ বিক্রম ঘোষের সঙ্গীত। তাঁর তালবাদ্যের প্রয়োগ ও আবহ ছবির দৃশ্যগুলিকে সমৃদ্ধ করে। কাজে দারুণ মুন্সিয়ানা। ইতিহাস-নির্ভর ছবির গল্প এবং চিত্রনাট্যর পাশে কী ভাবে সমান্তরালে সঙ্গত করে যেতে হয়, সেই মুন্সিয়ানা দেখিয়ে দিয়েছেন বিক্রম। ছবির গীতিকার শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুগত গুহ। ছবিতে ক্যামেরার কাজও অনবদ্য। চরম নাটকীয় মূহূর্ত থেকে চরিত্রদের আবেগ আলাদা ভাষা পায় আলো-আঁধারির খেলায়। আলোর ব্যবহারে ছবি জুড়ে যেন কবিতা বুনেছেন চিত্রগ্রাহক সৌমিক হালদার।

বাকি কে কেমন অভিনয় করলেন

ছবির একটি বড় চমক নগেন্দ্রর বাবা সূর্যকুমার সর্বাধিকারীর চরিত্র। এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গায়ক শ্রীকান্ত আচার্য। নগেন্দ্রর চরিত্রে দেব কেমন অভিনয় করেছেন তা নিয়ে কোন কথা হবে না। ছবি না দেখলে, সেই অভিনয়ের বিশ্লেষণ ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। এ অভিনয় সম্ভবত তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা। এই চরিত্রে দেব যেভাবে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন, তা ছবি না দেখলে বিশ্বাস হবে না। নগেন্দ্রর স্ত্রী কমলিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ইশা সাহা। ছক ভাঙা চরিত্র। ইশা চরিত্রের প্রতি যথাযথ সুবিচার করেছেন। রাজা আনন্দকৃষ্ণর ভূমিকায় অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল অভিনয় করেছেন পদ্মনাভ দাশগুপ্ত।

ভার্গব নামে এক স্বাধীনতা সংগ্রামীর চরিত্র বিশেষ ভাবে দর্শকের মনে দাগ কেটে যায়। অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টচার্য। পুলিশকে ফাঁকি দিতে হরেক রকম ছদ্মবেশ ধারণ থেকে শুরু করে স্বল্প পরিসরে এই চরিত্রে অনির্বাণের অভিনয় খুব মনে রাখার মত। ছবিতে চরিত্রের সংখ্যা অনেক। প্রসন্নকুমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিচালক –অভিনেতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়। নগেন্দ্র ছিলেন তাঁর ছেলের মত। নগেন্দ্রর মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তুলিকা বসু। ইংরেজদের সুবিধাভোগী এক ঘাতকের চরিত্রে আছেন দেবরঞ্জন নাগ। ভাল কাজ করেছেন উজান চট্টোপাধ্যায়, অনির্বাণ শিকদার, বিশ্বজিৎ দাস, অমিতাভ আচার্য।

 

 

 

Continue Reading

চর্চা

প্রধান বনাম প্রধান লড়াইয়ে জিতল কে দেব কি পারলেন

Published

on

প্রধান বনাম প্রধান লড়াইয়ে জিতল কে দেব কি পারলেন

ছবির নাম ‘প্রধান’। ছবির দুই মুখ্য চরিত্রের এক জনের পদবি প্রধান। আর এক জন পঞ্চায়েত প্রধান। যত দ্বন্দ্ব সব কিন্তু এখানে। এক প্রধান সৎ পুলিস অফিসার। আর এক প্রধান, বহু কু কীর্তির নায়ক। ছবি জুড়ে, দর্শক দেখে ভালো বনাম খারাপের লড়াই। প্রধান বনাম প্রধান লড়াইয়ের জিতল কে, দেব কি পারলেন? সেটা জানতে ছবির শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে।

কিছুটা পারিবারিক, অনেকটা সামাজিক, তার সাথে খানিক রাজনৈতিক। হ্যাঁ, এই সব কিছু নিয়ে যে ছবি, তার নাম ‘প্রধান’। বলিউডি ছবি ‘সিংঘম’কে মনে করিয়ে দেয়। ছবি যে ভাবে এগোয়, তাতে একে নিছক বাণিজ্যিক ছবি বলতে হয়। কিন্তু ছবির যে পারিবারিক এবং সামাজিক দিক আছে। হ্যাঁ, এটাই ছবিকে বাণিজ্যিক ছবি থেকে আলাদা করে দেয়।

ছবির গল্প ও তার বিশ্লেষণ

গ্রামের নাম ধর্মপুর। অবশ্যই কাল্পনিক। উত্তরবঙ্গের পাহাড় আর সবুজে ঘেরা গ্রাম ধর্মপুর। সেই সূত্রে, চা বাগান তো বটেই, ক্যামেরা বন্দি হয়েছে অপরূপ কিছু প্রাকৃতিক দৃশ্য। এই ধর্মপুর গ্রামে আছেন এক পঞ্চায়েত প্রধান। এই প্রধান হলেন লাগাম ছাড়া দুর্নীতির কারবারি। পঞ্চায়েত প্রধান জটিলেশ্বর এখানে দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। তাঁর অঙ্গুলি হেলনে ধর্মপুর চলে। সদ্য বিয়ে সেরে, এই ধর্মপুরে পা রাখেন থানার বড় বাবু দীপক প্রধান। তারপর থেকে শুরু হয়ে যায়  দীপক প্রধান বনাম পঞ্চায়েত প্রধানের সংঘাত।

শিরদাঁড়া যে তাঁর সোজা, সেটা প্রথম থেকেই বোঝা যায়। ঘুষ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। উল্টে থানার ছোট বাবু বিবেক (সোহম) বরং বড় বাবুকে দেখে নিজেকে বদলে নিতে চায়। মেজ বাবুর কথা আলাদা। তিনি ঘুষে বুঁদ। খুব অল্প সময়ে বড় বাবু বুঝিয়ে দেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানো তাঁর মূল উদ্দেশ্য। গ্রামের স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন জীবনকৃষ্ণ। মিথ্যে চুরির দায়ে, তাঁর চাকরি যায়। দেব ও সোহম তাঁর পাশে দাঁড়ায়। শুরু হয় দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই। সাপের ল্যাজে পা দিলে সাপ তো ফোঁস করবেই। দীপক প্রধানকে সরাতে উঠে পড়ে লাগেন পঞ্চায়েত প্রধান জটিলেশ্বর। ঠিক এই সময় ঘন্টা বেজে যায় পঞ্চায়েত ভোটের। তখন ভোটকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে খেলা।

পড়ুন : ‘বিজয়া’তে স্বস্তিকা নিজেই নিজেকে ছাপিয়ে গিয়েছেন

উঁহু, গল্প আর বলা যাবে না। আর বললে কেউ তো আর হলে গিয়ে সিনেমা দেখবে না। তবে এটা ঠিক যে ‘প্রধান’ ছবিতে দুই প্রধানের লড়াই কিন্তু দেখার মত। এবং সেটাই হল ছবির আসল বিনোদন। এ ছবি শোনায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সৎ পুলিশের লড়াইয়ের গল্প। সে গল্পে মিশেছে অনেক উপাদান। আছে দেব-সৌমিতৃষার দারুণ রোম্যান্স। আছে পরাণ-মমতা শঙ্করের পারিবারিক টানাপোড়েন। আছে প্রশাসন আর রাজনীতির রসায়ন। আর আছে ধুন্ধুমার ফাইট সিন।

কেমন হল পারফরম্যান্স, অভিনেতা অভিনেত্রীদের

দেবের অভিনয় নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দেব অনেক পরিণত অভিনেতা। যে কোন ছবিতে তাঁর জাত, ছবিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।  এই ছবিতেও তাই হয়েছে। থানার বড় বাবুর চরিত্রে, দেবকে খুব ভালো মানিয়েছে। সুজন মুখোপাধ্যায় এবং সোহমও অনেক পরিণত অভিনেতা। যথাযথ সংগত করেছেন দেবের সাথে। কিংবদন্তি পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং মমতা শঙ্করের অভিনয় নিয়ে নতুন করে কিছু বলা মানে বাহুল্য মাত্র। খরাজ মুখোপাধ্যায়, অম্বরীশ ভট্টাচার্য, কাঞ্চন মল্লিক, বিশ্বনাথ বসু, সোহিনী সেনগুপ্ত এঁরাও বা কম কিসে। যে যতটুকু সুযোগ পেয়েছেন, নিজেদের জাত চিনিয়েছেন। এঁদের প্রত্যেকের অভিনয়ের পরিসর স্বতন্ত্র। সেই সিগনেচার অভিনয়ের সঙ্গে দর্শক খুব ভালো ভাবে অভ্যস্ত। আরও আছেন কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস মণ্ডল, সৌমিতৃষা কুণ্ডু, তুলিকা বসু, জন ভট্টাচার্য, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী এবং আরও অনেকে। যাকে আমরা মূলত মজার চরিত্রে দেখতে অভ্যস্ত সেই অনির্বাণ চক্রবর্তী এখানে খলনায়ক। অভিনয় করেছেন পঞ্জায়েত প্রধানের চরিত্রে। যাকে বলে উলটপুরাণ।  যথারীতি, তাঁর অভিনয় নিয়ে কিছু বলার নেই। ‘টনিক’ আর ‘প্রজাপতি’র পরে আরও একবার দর্শকদের একটি দারুণ ছবি উপহার দিয়েছেন পরিচালক অভিজিৎ সেন।

সৌমিতৃষার অভিনয় নিয়ে দু-চার কথা।

জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিয়াল মিঠাইয়ের চরিত্রে সৌমিতৃষার অভিনয় দর্শকদের ভালো লেগেছিল। মিঠাই বন্ধের পরে, ‘প্রধান’ সৌমিতৃষার বড় পর্দায় প্রথম ছবি। অবশ্যই এটা একটা উত্তরণ। কারণ মিঠাই ছোট পর্দার জন্য আর প্রধান বড় পর্দার জন্য তৈরি।  দেবের মত বিরাট মাপের নক্ষত্রের সঙ্গে কাজ করতে সাহস লাগে। খানিক জড়তা থাকা স্বাভাবিক। যে ম্যানারিজম, সিরিয়ালের দর্শককে টানে, তা কিন্তু সিনেমায় কাজে নাও লাগতে পারে। এই ছবিতে, জড়তা বা ম্যানারিজমের সবটা কিন্তু সৌমিতৃষা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। সপ্রতিভও যেন কিছুটা কম। আগামী দিনে, সৌমিতৃষা নিশ্চয় আরও অনেক ছবিতে অভিনয় করবেন। দর্শক কিন্তু আশা করবে, এগুলো পিছনে ফেলে তিনি একটা অনন্য স্বকীয়তা তৈরি করবেন। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

মিড ডে মিল নিয়ে দুর্নীতি। রাস্তা বানানোর অর্থ তছরূপ। বুথ দখল করে ছাপ্পা ভোট। তার সাথে গণনায় কারচুপি। দৈনন্দিন জীবনের যা কিছু মানুষকে ভাবায়, সে সব কিছু আছে এখানে। ছবিতে পঞ্চায়েত ভোট ঘিরে তৈরি হয়েছে টানটান উত্তেজনা। ভোটে কে জিতবে কে হারবে তাই নিয়ে চলেছে চাপা টেনশন। সব মিলিয়ে ছবির শুরু থেকে শেষ আপাদমস্তক বিনোদনমূলক। বাণিজ্যিক ছবির মশলা ভরপুর মজুদ।

পরিচালক এবং প্রযোজক, ছবিতে বিনোদনের সব কিছু রেখেছেন। এক কথায় বলতে গেলে, এ ছবি সম্পূর্ণ পরিবারকে নিয়ে বসে দেখা যায়। তবে ছবির কিছু অংশ অনাবশ্যক। ছবির মূল বিষয়ের সঙ্গে বেমানান। এই অংশগুলি না থাকলেও প্রধান উতরে যেতে পারত। বাংলা ছবির দর্শক এখন অনেক পরিণত। আদ্যোপান্ত নির্মেদ ছবি দেখতে চায়। সহজ, সরল অথচ কঠিন বার্তা বহন করছে যে ছবি, দর্শক নিশ্চয় ভালোবাসবে।

Continue Reading