বিনোদন
মধুবালা প্রাচ্যের Marilyn Monroe বলেছিলেন ‘আমার বাবা ভিখিরি’

মধুবালা প্রাচ্যের Marilyn Monroe অসাধারণ রূপ ও অভিনয়ের জন্য তাঁকে এই ভাবে জানত
মধুবালা প্রাচ্যের Marilyn Monroe, সবাই তাঁকে এই ভাবে জানত। একটু পুরানো দিনে ফেরা যাক। হিমাংশু রায় মুম্বাই এসেছেন। সঙ্গে অভিনেত্রী-স্ত্রী দেবিকা রাণী। মনে বড় আশা, স্টুডিও তৈরি করবেন। তার জন্য জমি চাই। শুরু করে দিলেন পছন্দের জায়গা খোঁজা। পরিচয় হল সিনেমার জন্য কাহিনী লেখক নিরঞ্জন পালের সঙ্গে।
পালবাবুর মাধ্যমে দালালের থেকে হিমাংশু জানতে পারলেন। মালাডে এক পার্শী ভদ্রলোক খুব সুন্দর একটি বাড়ি বানিয়েছিলেন। সম্প্রতি তাঁর স্ত্রী প্রয়াত হয়েছেন। তিনি আর বাড়িটি রাখতে চাইছেন না। বাড়ি তিনি বেচে দেবেন। তাঁর একটি শর্ত আছে। বাড়ির সঙ্গে লাগোয়া জমিতে একটি কুয়ো আছে। কুয়ো থেকে স্থানীয় বস্তিবাসীরা জল নেয়। পার্শী ভদ্রলোক ঠিক করেছেন। তাঁকেই বাড়ি বেচবেন যিনি কুয়ো থেকে জল তুলতে বস্তিবাসীদের বাধা দেবেন না। হিমাংশু এই শর্তে রাজি হয়ে বাড়ি কিনলেন।
স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের বেলা শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালের ২২ মে…
এরপর ধীরে ধীরে হিমাংশুর ছবি কোম্পানি ‘বম্বে টকিজ’ ফুলে ফেঁপে ওঠে। বেশ কয়েক বছর পরে বম্বে টকিজের এক ম্যানেজার লক্ষ্য করলেন, একটি ছোট্ট মেয়ে রোজ কুয়োর পাশে দাঁড়িয়ে বস্তিবাসীকে জল তুলে দিয়ে সাহায্য করে। তার বদলে বস্তিবাসী তাকে খেতে দেয়। ছোট্ট মেয়েটিকে সবাই বেবি মমতাজ বলে ডাকত।
দেবিকা রাণি বেবি মমতাজের নাম রেখেছিলেন মধুবালা
স্টুডিও ম্যানেজারের কাছে সব শুনে, মমতাজকে ডেকে পাঠান দেবিকা। বেবিকে দেবিকার খুব মনে ধরে। সাল উনিশশো বিয়াল্লিশ। দেবিকার প্রযোজনায় ‘বসন্ত’ ছবির শুটিং চলছে। হিন্দি ছবিতে প্রথম অভিনয় করছে পাঞ্জাবি সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রি মমতাজ শান্তি। নির্দেশনায় অমিয় চক্রবর্তী। ছবির গল্পও তাঁর লেখা। ছবিতে সুর দিয়েছেন পান্নালাল ঘোষ। ছবিতে শান্তির মেয়ের ভূমিকায় নেওয়া হল বেবি মমতাজকে।
বক্স অফিসে দারুণ সফল হল ‘বসন্ত’। দর্শকরা উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করলেন। সে বছর সব থেকে বেশি রোজগার করেছিল ‘বসন্ত’। ছবিতে ছোট্ট মমতাজের অভিনয় দেখে সবাই মুগ্ধ। এই ছবি থেকে হিন্দি ছবির ইতিহাসে লেখা হয় এক নতুন অধ্যায়। ছোট্ট মেয়ে বেবি মমতাজের অভিনয় প্রতিভা পরবর্তী অনেক বছর ভারতীয় চলচ্চিত্রপ্রেমিদের আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।
‘বসন্ত’ ছবিতে বেবি মমতাজের অভিনয়ে দেবিকা রাণি এত খুশি হয়েছিলেন যে সেদিন তিনি ছোট্ট মমতাজের নতুন নাম রেখেছিলেন ‘মধুবালা‘। ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব নিয়ে যখন প্রযোজকেরা মধুবালার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন, মধুবালা তখন অকপটে স্বীকার করেছিল, ‘আমার বাবা ভিখিরি। তিনি দিন গুজরানের জন্য ভিক্ষা করতে বেরিয়েছেন।’
দরবেশ ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন মধুবালা অনেক খ্যাতি অর্জন করবেন তবে সুখী হতে পারবেন না
ছবির জগতে মধুবালার নাম ছড়িয়ে পড়তে একটার পর একটা ছবির প্রস্তাব আসতে থাকে। ‘মুমতাজ মহল’, ‘নীল কমল’, ‘অমর প্রেম’ এবং আরও বহু ছবিতে বেবির অনবদ্য অভিনয়ে তামাম দর্শককুল মোহিত হতে শুরু করে। উনিশশো উনপঞ্চাশ সালে ‘মহল’ ছবি থেকে মধুবালা, বলতে গেলে রাতারাতি স্টার হয়ে ওঠে।
আতাউল্লাহ খান পাকিস্তানের পেশোয়ারের এক তামাক কোম্পানিতে চাকরি করতেন। চাকরি চলে যাওয়ার পরে বেবির বাবা মুম্বাই চলে আসেন। বেবির সম্পূর্ণ নাম ছিল মমতাজ জাহান দেহলভী। দিল্লিতে এক অত্যন্ত গরিব পরিবারে চোদ্দই ফেব্রুয়ারি ভ্যালেন্টাইনস ডে, তার জন্ম। এগারো ভাইবোনের মধ্যে বেবি ছিল পঞ্চম সন্তান। জনশ্রুতি আছে মধুবালা যখন খুব ছোট তখন এক দরবেশ তাকে দেখে ভবিষ্যতবাণী করেছিলেন তিনি জীবনে অনেক খ্যাতি অর্জন করবেন তবে সুখী হতে পারবেন না এবং তিনি অকালে মারা যাবেন।
বিনোদন
মোনালি বলেছিলেন তিনি বিবাহিত কিন্তু সত্যি কি তাই

জন্ম ০৩ নভেম্বর ১৯৮৫
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত
পিতা শক্তি ঠাকুর
মাতা মিনতি ঠাকুর
দিদি মেহুলি ঠাকুর
জীবন সঙ্গী মাইখ রিখটার (অসমর্থিত)
সাল ২০২০। একটি জনপ্রিয় সর্ব ভারতীয় সংবাদপত্রের পাতা। সে পাতায় ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। ২০২০ সালে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে মোনালি স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বিবাহিত। তার তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে তিনি নাকি বিয়ে করেছেন। পাত্র এক সুইডিশ রেস্তোরাঁ মালিক। নাম মাইক রিখটার।
২০১৭ থেকে ২০২০। তিন বছর মোনালি তাঁর বিয়ে গোপন করেছিলেন। না কোন সংবাদ মাধ্যম। না কোন সমাজ মাধ্যম। কোথাও প্রকাশিত হয়নি মোনালির বিয়ের খবর। বিয়ের আংটি কখনও ভুলবশত ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দেখা যেত। তার থেকে অনেকে মোনালির বিয়ের খবর জানতে উৎসুক থাকতেন। কিন্তু মাইক এবং মোনালি দুজনেই অত্যন্ত সফল ভাবে তাঁদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন: টিভি থেকে সিনেমা এবং রাজনীতি চিরঞ্জিত সবেতে সফল
এবার আসা যাক আর একটি জনপ্রিয় বাংলা সংবাদপত্রের প্রসঙ্গে। তারিখ ১ আগস্ট ২০১৭। সেখানেও ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। শুরুতে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু মোনালি বিয়ের খবর অস্বীকার করেছেন। বলেছিলেন, ‘বিয়ে নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কি আছে? বিয়ে হলে জানাবেন।’ এমন কি বয়ফ্রেণ্ডের নাম পর্যন্ত বলতে চাননি। কেন এত গোপনীয়তা, সেটা মোনানিই বলতে পারবেন।
মোনালি শক্তি ঠাকুরের ছোট মেয়ে। জন সমক্ষে প্রথম আবির্ভাব গায়িকা রূপে। অভিনয় তার পরে। বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘আলোকিত এক ইন্দু’তে প্রথম অভিনয়। মুখ্য চরিত্র ইন্দুবালার ভূমিকায়। এরপর অভিনয় করেছেন আরও দু-একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে। এক দিন রাজা সেন প্রস্তাব দিলেন তাঁর ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ছবির নাম ‘কৃষ্ণকান্তের উইল।’ মোনালিকে, রাজা সেন ভ্রমরের চরিত্রে ভেবেছিলেন।
বিনোদন
টিভি থেকে সিনেমা এবং রাজনীতি চিরঞ্জিত সবেতে সফল

দীপক ওরফে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বাংলা চলচ্চিত্রের এক সফল অভিনেতা এবং পরিচালক। তিনি প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট শায়লা চক্রবর্তীর ছেলে। এছাড়াও তিনি একজন রাজনীতিবিদ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য।
চলচ্চিত্র তালিকা
সাল | চলচ্চিত্র/ ধারাবাহিক | চরিত্র | মন্তব্য/পুরস্কার |
১৯৮১ | সোনায় সোহাগা | অভিনেতা | |
১৯৮৯ | মর্যাদা | পরিচালক | |
১৯৯৪ | ফিরিয়ে দাও | পরিচালক | |
১৯৯৫ | কেঁচো খুঁড়তে কেউটে | অভিনেতা এবং পরিচালক | |
১৯৯৫ | সংসার সংগ্রাম | পরিচালক | |
১৯৯৬ | ভয় | পরিচালক | |
২০০০ | বস্তির মেয়ে রাধা | পরিচালক | |
২০০২ | মানুষ অমানুষ | পরিচালক | |
২০১৪ | চতুষ্কোণ | অভিনেতা | |
২০১৬ | ষড়রিপু | অভিনেতা | |
২০১৬ | কিরীটী রায় | কিরীটী রায় | অভিনেতা (নাম ভূমিকা) |
আরও পড়ুন: পদ্মিনীর নাচ দেখে রাজ কাপুর তাঁর ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন
বিনোদন
নাচ দেখে রাজ কাপুর বলেছিলেন আমার ছবিতে অভিনয় করবে

ছোটবেলায় নাচতে ভালো লাগত। আশাজি সম্পর্কে মামি। মামির গান খুব পছন্দ। মামির গানে নাচতে দারুণ লাগে। নাচের মুদ্রা কিন্তু নিজস্ব। সে মুদ্রা কেউ শেখায়নি। গান আশাজির, স্টেপ নিজের। কোন এক অনুষ্ঠানে, পদ্মিনী এভাবেই নাচছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজ কাপুর। দেখছিলেন পদ্মিনীর নাচ। নাচ দেখে রাজ কাপুর বলেছিলেন আমার ছবিতে অভিনয় করবে। পদ্মিনীর তখন কি এমন বয়স। বলিষ্ঠ স্বরে বলেছিলেন, আমি তো অভিনয় করি। এই আত্মবিশ্বাস রাজের ভালো লেগেছিল। পদ্মিনী মনে করেন, সম্ভবত এই কারণে রাজ কাপুর তাঁকে ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ ছবিতে নিয়েছিলেন।
পিতা পন্ধরীনাথ কোলহাপুরী। মা নিরুপমা কোলহাপুরী। তিন বোনের মধ্যে পদ্মিনী কোলহাপুরী দ্বিতীয়। বড় বোন শিভাঙ্গী কোলহাপুরীকে বিয়ে করেছেন শক্তি কাপুর। ছোট বোন তেজস্বিনী কোলহাপুরীও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
পদ্মিনীর ঠাকুরদা পণ্ডিত কৃষ্ণ রাও কোলহাপুরী এবং লতাজি, আশাজির পিতা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ‘বলবন্ত নাটক আকাদেমি’তে এক সাথে কাজ করেছেন। পদ্মিনীর মা নিরুপমা (পন্ধরীনাথের স্ত্রী) ছিলেন পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের সৎ বোন। সেই সূত্রে, পদ্মিনী আবার লতাজি এবং আশাজির ভাগ্নী।
আরও পড়ুন: ঋষিকেশ বহিরাগত হয়েও বলিউডে জায়গা করে নিয়েছিলেন
পদ্মিনীর মা নিরুপমা ছিলেন কোঙ্কণী ব্রাহ্মণ সন্তান। বসবাস ছিল কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে। বাবার তরফে, পদ্মিনীর পূর্ব পুরুষের বসবাস ছিল মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে। মূলত পিতৃ সূত্রে, পদ্মিনীর নামের সাথে যুক্ত হয়েছে কোলহাপুর।
মধ্যবিত্ত মহারাষ্ট্রীয় কোঙ্কণী পরিবারের সন্তান, পদ্মিনীর ছোট বেলা কেটেছে প্রবল দারিদ্রের মধ্যে। পদ্মিনী দেখেছে, সংসার চালাতে বাবা কেমন হিমশিম খেতেন। আয় বাড়াতে, পন্ধরীনাথ গান শেখাতে শুরু করেছিলেন। তাতে অবশ্য সংসারের হাল ফিরেছিল। তবে তা সেরকম কিছু নয়।