বিনোদন
স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত বেলা শুরু আর হল না শেষ তবে বেলা শেষে

জীবনাবসান হতে পারে একটি পর্যায়ের শেষ অথবা হতে পারে নিছক একটি জীবনবৃত্তের অবসান। স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত বেলা শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালের ২২ মে। তাঁর জীবনের শুরু নাহয় এভাবে তাঁর অভিনীত ‘বেলা শুরু (২০২০)’ দিয়েই বলা যাক। বেঁচে থাকতে এ ছবির শুভমুক্তি দেখে যেতে পারলেন না। আশির দশকের গোড়ায় এলাহাবাদে অভিনয় জীবনের শুরু।
স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত বেলা শুরু কলকাতায় এসে নান্দীকারে ঘোগ দিয়েছিলেন
স্বাতীলেখা তারপর চলে আসেন কলকাতায়। ১৯৭৮ সালে যোগ দেন নান্দীকারে। শুরু হয় একের পর এক সফল নাটকে অসাধারণ অভিনয়। নটী বিনোদিনী, নাম ভূমিকায়, ফুটবল…। পাঞ্চজন্য, বিপন্নতা, নাচনী…। খড়ির গণ্ডি, আন্তিগোনে, ফেরিওয়ালার মৃত্যু…। তাঁর অনবদ্য অভিনয়ে সমৃদ্ধ একের পর এক নাটকের নাম। তালিকা শেষ হয়েও শেষ হয় না।
অন্তীম যাত্রায় অভিনেত্রী স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত#SwatilekhaSengupta #RIP #Tollywood #entertainmentnews pic.twitter.com/G59TLOztbM
— Asianetnews Bangla (@AsianetNewsBN) June 16, 2021
স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত -র প্রয়াণে শোকাহত ঋতুপর্ণা@RituparnaSpeaks #SwatilekhaSengupta #RIP pic.twitter.com/mW9SvQuxnv
— Asianetnews Bangla (@AsianetNewsBN) June 16, 2021
সত্যজিতের পরিচালনায় ‘ঘরে বাইরে’ ছবিতে বিমলার চরিত্রে অভিনয় দিয়ে সিনেমাতে অভিনয়ের শুরু
অভিনয়ের পাশাপাশি ছিলেন পিয়ানো এবং বেহালা বাজানোয় পারদর্শী। নাটকে নির্দেশনা করতেন। তার সাথে নাটকের গানের দায়িত্বও কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নাট্যসঙ্গীতে বিশেষজ্ঞ দেবজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় সে কথা বলেছেন। দেবজিতের আর্কাইভে স্বাতীলেখা বেশ কিছু নাটকের গান রেকর্ড করেছিলেন। অভিনয় জীবনে উৎসাহ পেয়েছেন বি ডি করণ, তাপস সেন, খালেদ চৌধুরীর মত ব্যক্তিত্বদের। বহু বছর ধরে তাঁর অভিনেয়ের সাক্ষী ছিলেন দেবশঙ্কর হালদার। স্বাতীলেখার পূর্বসূরী মনোজ মিত্র বহু আগে এলাহাবাদে তাঁর অভিনয় দেখেছেন।
“আমার বাবা ভিখিরি” অকপটে বলেছিলেন মধুবালা
সিনেমার পর্দায় স্বাতীলেখার যাত্রা শুরু ১৯৮৪ সালে। সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ঘরে বাইরে ছবিতে তিনি মুখ্য নারী চরিত্রে অভিনয় করেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায় ও সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সাথে । বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঘরে বাইরে উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে ছবিটি তৈরি। ‘বিমলা’ চরিত্রে স্বাতীলেখার অভিনয় দিয়ে দর্শককে মুগ্ধ করেছিল।
সুদীর্ঘ তিন দশক পরে ‘বেলা শেষে’ ছবি দিয়ে স্বাতীলেখার অভিনয়ে ফেরা তারপর ‘ বেলা শুরু’
দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে থিয়েটারের ছাড়া সিনেমায় আর কাজ করেননি। ছবিতে ফিরেছিলেন নন্দিতা রায় ও শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের হাত ধরে। ‘বেলাশেষে’ (২০১৫) ছবিতে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। এরপর ২০১৯ সালে সুদীপ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘বরফ’ । তারপর রাজ চক্রবর্তীর ‘ধর্মযুদ্ধ’ । আর শিবপ্রসাদ-নন্দিতা জুটির পরিচালনায় ‘বেলা শুরু’ । দুটো ছবিই তৈরি হয়েছে ২০২০ সালে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ছবি দুটি এখনও মুক্তি পায়নি।
চিকিৎসকদের প্রয়াস ব্যর্থ করে নিঃশব্দে চলে গেলেন স্বাতীলেখা রেখে গেলেন স্বামী রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত একমাত্র মেয়ে সোহিনী সেনগুপ্ত
আজ সব কিছু থেকে বিদায় নিলেন। কিছু দিন আগে কাটিয়েছেন ৭১তম জন্মদিন। স্বাতীলেখাকে ‘গুরু’ সম্বোধন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন শিবপ্রসাদ। লিখেছিলেন, বেলা শেষে থেকে বেলা শুরু। তিরিশ বছর পর আবার তুমিই পারো দুশো সতের দিনের বক্স অফিস রেকর্ড গড়তে। সবাই অপেক্ষা করছে তোমায় দেখবে বলে।…
বিনোদন
মোনালি বলেছিলেন তিনি বিবাহিত কিন্তু সত্যি কি তাই

জন্ম ০৩ নভেম্বর ১৯৮৫
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত
পিতা শক্তি ঠাকুর
মাতা মিনতি ঠাকুর
দিদি মেহুলি ঠাকুর
জীবন সঙ্গী মাইখ রিখটার (অসমর্থিত)
সাল ২০২০। একটি জনপ্রিয় সর্ব ভারতীয় সংবাদপত্রের পাতা। সে পাতায় ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। ২০২০ সালে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে মোনালি স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বিবাহিত। তার তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে তিনি নাকি বিয়ে করেছেন। পাত্র এক সুইডিশ রেস্তোরাঁ মালিক। নাম মাইক রিখটার।
২০১৭ থেকে ২০২০। তিন বছর মোনালি তাঁর বিয়ে গোপন করেছিলেন। না কোন সংবাদ মাধ্যম। না কোন সমাজ মাধ্যম। কোথাও প্রকাশিত হয়নি মোনালির বিয়ের খবর। বিয়ের আংটি কখনও ভুলবশত ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দেখা যেত। তার থেকে অনেকে মোনালির বিয়ের খবর জানতে উৎসুক থাকতেন। কিন্তু মাইক এবং মোনালি দুজনেই অত্যন্ত সফল ভাবে তাঁদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন: টিভি থেকে সিনেমা এবং রাজনীতি চিরঞ্জিত সবেতে সফল
এবার আসা যাক আর একটি জনপ্রিয় বাংলা সংবাদপত্রের প্রসঙ্গে। তারিখ ১ আগস্ট ২০১৭। সেখানেও ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। শুরুতে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু মোনালি বিয়ের খবর অস্বীকার করেছেন। বলেছিলেন, ‘বিয়ে নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কি আছে? বিয়ে হলে জানাবেন।’ এমন কি বয়ফ্রেণ্ডের নাম পর্যন্ত বলতে চাননি। কেন এত গোপনীয়তা, সেটা মোনানিই বলতে পারবেন।
মোনালি শক্তি ঠাকুরের ছোট মেয়ে। জন সমক্ষে প্রথম আবির্ভাব গায়িকা রূপে। অভিনয় তার পরে। বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘আলোকিত এক ইন্দু’তে প্রথম অভিনয়। মুখ্য চরিত্র ইন্দুবালার ভূমিকায়। এরপর অভিনয় করেছেন আরও দু-একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে। এক দিন রাজা সেন প্রস্তাব দিলেন তাঁর ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ছবির নাম ‘কৃষ্ণকান্তের উইল।’ মোনালিকে, রাজা সেন ভ্রমরের চরিত্রে ভেবেছিলেন।
বিনোদন
টিভি থেকে সিনেমা এবং রাজনীতি চিরঞ্জিত সবেতে সফল

দীপক ওরফে চিরঞ্জিত চক্রবর্তী বাংলা চলচ্চিত্রের এক সফল অভিনেতা এবং পরিচালক। তিনি প্রখ্যাত কার্টুনিস্ট শায়লা চক্রবর্তীর ছেলে। এছাড়াও তিনি একজন রাজনীতিবিদ এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য।
চলচ্চিত্র তালিকা
সাল | চলচ্চিত্র/ ধারাবাহিক | চরিত্র | মন্তব্য/পুরস্কার |
১৯৮১ | সোনায় সোহাগা | অভিনেতা | |
১৯৮৯ | মর্যাদা | পরিচালক | |
১৯৯৪ | ফিরিয়ে দাও | পরিচালক | |
১৯৯৫ | কেঁচো খুঁড়তে কেউটে | অভিনেতা এবং পরিচালক | |
১৯৯৫ | সংসার সংগ্রাম | পরিচালক | |
১৯৯৬ | ভয় | পরিচালক | |
২০০০ | বস্তির মেয়ে রাধা | পরিচালক | |
২০০২ | মানুষ অমানুষ | পরিচালক | |
২০১৪ | চতুষ্কোণ | অভিনেতা | |
২০১৬ | ষড়রিপু | অভিনেতা | |
২০১৬ | কিরীটী রায় | কিরীটী রায় | অভিনেতা (নাম ভূমিকা) |
আরও পড়ুন: পদ্মিনীর নাচ দেখে রাজ কাপুর তাঁর ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন
বিনোদন
নাচ দেখে রাজ কাপুর বলেছিলেন আমার ছবিতে অভিনয় করবে

ছোটবেলায় নাচতে ভালো লাগত। আশাজি সম্পর্কে মামি। মামির গান খুব পছন্দ। মামির গানে নাচতে দারুণ লাগে। নাচের মুদ্রা কিন্তু নিজস্ব। সে মুদ্রা কেউ শেখায়নি। গান আশাজির, স্টেপ নিজের। কোন এক অনুষ্ঠানে, পদ্মিনী এভাবেই নাচছিলেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি রাজ কাপুর। দেখছিলেন পদ্মিনীর নাচ। নাচ দেখে রাজ কাপুর বলেছিলেন আমার ছবিতে অভিনয় করবে। পদ্মিনীর তখন কি এমন বয়স। বলিষ্ঠ স্বরে বলেছিলেন, আমি তো অভিনয় করি। এই আত্মবিশ্বাস রাজের ভালো লেগেছিল। পদ্মিনী মনে করেন, সম্ভবত এই কারণে রাজ কাপুর তাঁকে ‘সত্যম শিবম সুন্দরম’ ছবিতে নিয়েছিলেন।
পিতা পন্ধরীনাথ কোলহাপুরী। মা নিরুপমা কোলহাপুরী। তিন বোনের মধ্যে পদ্মিনী কোলহাপুরী দ্বিতীয়। বড় বোন শিভাঙ্গী কোলহাপুরীকে বিয়ে করেছেন শক্তি কাপুর। ছোট বোন তেজস্বিনী কোলহাপুরীও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।
পদ্মিনীর ঠাকুরদা পণ্ডিত কৃষ্ণ রাও কোলহাপুরী এবং লতাজি, আশাজির পিতা পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকর ‘বলবন্ত নাটক আকাদেমি’তে এক সাথে কাজ করেছেন। পদ্মিনীর মা নিরুপমা (পন্ধরীনাথের স্ত্রী) ছিলেন পণ্ডিত দীননাথ মঙ্গেশকরের সৎ বোন। সেই সূত্রে, পদ্মিনী আবার লতাজি এবং আশাজির ভাগ্নী।
আরও পড়ুন: ঋষিকেশ বহিরাগত হয়েও বলিউডে জায়গা করে নিয়েছিলেন
পদ্মিনীর মা নিরুপমা ছিলেন কোঙ্কণী ব্রাহ্মণ সন্তান। বসবাস ছিল কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালোরে। বাবার তরফে, পদ্মিনীর পূর্ব পুরুষের বসবাস ছিল মহারাষ্ট্রের কোলহাপুরে। মূলত পিতৃ সূত্রে, পদ্মিনীর নামের সাথে যুক্ত হয়েছে কোলহাপুর।
মধ্যবিত্ত মহারাষ্ট্রীয় কোঙ্কণী পরিবারের সন্তান, পদ্মিনীর ছোট বেলা কেটেছে প্রবল দারিদ্রের মধ্যে। পদ্মিনী দেখেছে, সংসার চালাতে বাবা কেমন হিমশিম খেতেন। আয় বাড়াতে, পন্ধরীনাথ গান শেখাতে শুরু করেছিলেন। তাতে অবশ্য সংসারের হাল ফিরেছিল। তবে তা সেরকম কিছু নয়।