সঙ্গীত
বাংলা গান হেমন্ত এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত তিনটি এক সুরে বাঁধা

বাংলা গান হেমন্ত এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত এ তিন বিষয় কোথাও যেন এক সূত্রে গাঁথা। বাঙালি তা মনে করে। বলাই বাহুল্য এ কথা অস্বীকার করার নয়। ছিমছাম জীবনের সঙ্গে বিরাট মন। একাধারে গায়ক এবং সুরকার। চেয়েছিলেন সাহিত্যিক হতে। বিশেষ হৃদ্যতা ছিল সন্তোষ কুমার ঘোষের সঙ্গে। হেমন্ত লিখতেন ছোট গল্প, সন্তোষ ঘোষ লিখতেন কবিতা আর সুভাষ মুখোপাধ্যায় গাইতেন গান। হেমন্ত কিছু দিন দেশ পত্রিকায় লিখেছিলেন।
বাংলা গান হেমন্ত এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত তার সাথে গায়ক ও সুরকার এত সব কিছু মিলে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের জীবনী
সাল উনিশো সাতান্ন। ইন্দ্রাণী ছবির ছবিতে সুর করতে, নচিকেতা বোম্বে এসেছেন। আগের রাতে নচিবাবু গায়ককে মনে করিয়ে দিলেন ‘গলায় স্ট্রেস দেবেন না। সকালে রেকর্ডিঙে গলা চাইমাখনের মত।‘ নচিবাবুর কথা মত হেমন্ত বাধ্য ছেলের মত রাত দশটার মধ্যে খেয়েদেয়ে শুয়ে পড়লেন।
সকাল হয়ে গেছে। নচিবাবু তখনও পড়ে পড়ে ঘুমোচ্ছেন। ঘুম থেকে ডেকে তুললেন হেমন্ত। দুজনে তৈরি হয়ে বেরিয়ে পড়লেন স্টুডিয়োর উদ্দেশ্যে। সিঙ্গল টেকে রেকর্ডিং ওকে। নচিকেতা দারুণ খুশি। স্টুডিও থেকে বেরিয়ে গাড়িতে যেতে যেতে বললেন ‘দেখলেন তো গলায় স্ট্রেস না দিলে, রেকর্ডিং কত ভাল হয়। এবার থেকে মেনে চলবেন।‘ মৃদু হেসে হেমন্ত বলেছিলেন ‘মেনে চলার চেষ্টা তো করি। তাও মাঝে মধ্যে ভুল হয়ে যায়।’
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এই রাত তোমার আমার বাংলা গানের স্বর্ণযুগের একটা মাইল ফলক এখনও শ্রোতাদের কাছে দারুণ জনপ্রিয়
গাড়ি আরও কিছু দূর এগোবার পরে নচিকেতা বললেন ‘আজ ভোরে তো বেশ তাড়াতাড়ি আমাকে তুলে দিলেন। কি ব্যাপার বলুন তো!’ মুচকি হেসে হেমন্ত বললেন, ‘রাতে চারটে ফাংশন ছিল। সেগুলো সেরে ফিরে দেখলাম, সকাল হয়ে গেছে। চান সেরে আপনাকে ডেকে দিলাম।’ কথা শুনে নচিকেতার তো ভিরমি খাওয়ার জোগাড়। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকলেন হেমন্তের দিকে।
পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে হয়েছিল?
ছিল অসাধারণ পেশাদারিত্ব। অনুষ্ঠান করে প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হলে তা আদায় করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, মনে করতেন অনুষ্ঠানে যেতে না পারলে, অগ্রিম ফিরিয়ে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বুকে তীব্র যন্ত্রনা। উর্ধ্বশ্বাসে গাড়ি ছুটছে উডল্যান্ডস নার্সিং হোমের দিকে। চালকের আসনে, আজীবনের সঙ্গী সনৎদা। কথা বলতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। কোন রকমে ব্যথা সামলে সনৎদাকে বললেন, ‘বাড়ি গিয়ে দিদিকে বলবে, আলমারি খুলতে। খামগুলো রেডি আছে। যে যে প্রোগ্রামের অ্যাডভান্স নিয়েছি, খামগুলো তাদের ফিরিয়ে দেবে।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় বাংলা গান পাশাপাশি চলে ‘পথ হারাবো বলেই এবার‘ আজও সমান জনপ্রিয়
সারা জীবনে ভূষিত হয়েছেন অসংখ্য সম্মানে। ‘নিমন্ত্রণ’ এবং ‘লালন ফকির’ ছবি দুটির জন্য দুবার শ্রেষ্ঠ পুরুষ প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। ছিলেন বড় মাপের সুরকার। উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের তালিম না থাকা সত্ত্বেও রাগসঙ্গীত ছিল মজ্জাগত। বলতেন ‘প্রথাগত শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সুরকারের মাথাই আসল।’ সুরকার হেমন্ত বরাবর চাপা পড়ে থেকেছে গায়ক হেমন্তের পিছনে।
রবীন্দ্র সঙ্গীত হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সেখানেও অনবদ্য হেমন্ত গায়কীর ছাপ এখনও অবিকল্প
‘নাগিন’ছবির জন্য ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ সুরকার পুরস্কার পেয়েছেন। এক সময় তাঁর গান বহু শিল্পীর অবলম্বন ছিল। চিত্তপ্রিয় মুখোপাধ্যায়, শম্ভু মুখোপাধ্যায়, প্রণব সান্যাল, অনাথবন্ধু দাস, তাপস চট্টোপাধ্যায়, শ্যামল চক্রবর্তী, পুলক দাসের মত অসংখ্য শিল্পীর কাছে হেমন্ত ছিলেন ‘ইন্ড্রাস্ট্রি’। অনুষ্ঠান আয়োজক তোচন ঘোষ থেকে শুরু করে শিবাজী চট্টোপাধ্যায় সবাই একবাক্যে স্বীকার করেন ‘হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছিলেন ঈশ্বরের দান।’
সহশিল্পীদের প্রশংসায় কখনও দরাজ না হলেও মান্না দে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। ডাকতেন, ‘মান্নাবাবু’। বলতেন, ‘মান্নার তুলনা হয় না।’ ‘কোহর’ ছবি করতে গিয়ে, উত্তম কুমারের সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরে। উত্তমের লিপে গান গাওয়া বন্ধ করে দেন। কয়েক বছর পর যদিও সম্পর্ক আবার জোড়া লেগেছিল। ‘বড়দার’ সঙ্গীত পরিচালনায় ‘মহিষাসুরমর্দিনীর’ বিকল্প আকাশবাণীর ইতিহাসে প্রথম এবং শেষ একমাত্র অনুষ্ঠানে উত্তম কুমার ছিলেন ভাষ্যপাঠে।
তার আর পর নেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নিজের কৃতিত্ব দিয়ে গানের কথাকে সার্থক করে গেছেন
আপাদমস্তক বাঙালি, খেতে ভালবাসতেন, ভাত আর মাছের ঝোল। পুত্রবধূ মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় স্মৃতিচারণে বলেছেন, বিকেল হলে বলতেন ‘চায়ের সঙ্গে একটু মুড়ি হবে নাকি?’ অত্যন্ত ঘরোয়া প্রকৃতির মানুষ, ব্যক্তিগত আর বাইরের জীবনের মধ্যে একটুও ফারাক ছিল না। মৌসুমীকে কথা দিয়েছিলেন, সে চাইলেই গান শোনাবেন। একদিন দাড়ি কাটছিলেন। সেই সময়, রঞ্জিত মল্লিক আর মৌসুমী ঘরে ঢুকে পড়েন। মৌসুমী মনে করিয়ে দিতে সঙ্গে সঙ্গে গান গেয়ে উঠেছিলেন।
বিনোদন
মোনালি বলেছিলেন তিনি বিবাহিত কিন্তু সত্যি কি তাই

জন্ম ০৩ নভেম্বর ১৯৮৫
কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত
পিতা শক্তি ঠাকুর
মাতা মিনতি ঠাকুর
দিদি মেহুলি ঠাকুর
জীবন সঙ্গী মাইখ রিখটার (অসমর্থিত)
সাল ২০২০। একটি জনপ্রিয় সর্ব ভারতীয় সংবাদপত্রের পাতা। সে পাতায় ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। ২০২০ সালে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে মোনালি স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বিবাহিত। তার তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে তিনি নাকি বিয়ে করেছেন। পাত্র এক সুইডিশ রেস্তোরাঁ মালিক। নাম মাইক রিখটার।
২০১৭ থেকে ২০২০। তিন বছর মোনালি তাঁর বিয়ে গোপন করেছিলেন। না কোন সংবাদ মাধ্যম। না কোন সমাজ মাধ্যম। কোথাও প্রকাশিত হয়নি মোনালির বিয়ের খবর। বিয়ের আংটি কখনও ভুলবশত ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দেখা যেত। তার থেকে অনেকে মোনালির বিয়ের খবর জানতে উৎসুক থাকতেন। কিন্তু মাইক এবং মোনালি দুজনেই অত্যন্ত সফল ভাবে তাঁদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন।
আরও পড়ুন: টিভি থেকে সিনেমা এবং রাজনীতি চিরঞ্জিত সবেতে সফল
এবার আসা যাক আর একটি জনপ্রিয় বাংলা সংবাদপত্রের প্রসঙ্গে। তারিখ ১ আগস্ট ২০১৭। সেখানেও ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। শুরুতে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু মোনালি বিয়ের খবর অস্বীকার করেছেন। বলেছিলেন, ‘বিয়ে নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কি আছে? বিয়ে হলে জানাবেন।’ এমন কি বয়ফ্রেণ্ডের নাম পর্যন্ত বলতে চাননি। কেন এত গোপনীয়তা, সেটা মোনানিই বলতে পারবেন।
মোনালি শক্তি ঠাকুরের ছোট মেয়ে। জন সমক্ষে প্রথম আবির্ভাব গায়িকা রূপে। অভিনয় তার পরে। বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘আলোকিত এক ইন্দু’তে প্রথম অভিনয়। মুখ্য চরিত্র ইন্দুবালার ভূমিকায়। এরপর অভিনয় করেছেন আরও দু-একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে। এক দিন রাজা সেন প্রস্তাব দিলেন তাঁর ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ছবির নাম ‘কৃষ্ণকান্তের উইল।’ মোনালিকে, রাজা সেন ভ্রমরের চরিত্রে ভেবেছিলেন।
সঙ্গীত
লতাজির প্রথম পুজোর বাংলা গানের জন্ম রেস্তোরাঁয়

জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯২৯
ইন্দোর, (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ), ভারত
মৃত্যু: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২
মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ঠিক করলেন মহাদেবি ভার্মার লেখা ছোট গল্প ‘চিনি ফেরিওয়ালা’ নিয়ে ছবি করবেন। ‘হেমন্ত বেলা প্রোডাকশন’ ব্যানারে ছবির নাম ঠিক হল ‘নীল আকাশের নীচে’। নায়ক উত্তমকুমার এবং পরিচালক ভূপেন হাজারিকা। পরে অবশ্য পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মৃণাল সেন এবং উত্তমকুমারের বদলে নায়ক হয়েছিলেন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। মহরতে ক্ল্যাপস্টিক দিতে লতা মঙ্গেশকর কলকাতায় এলেন। লতাজিকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে অনেকের মধ্যে হাজির হয়েছিলেন এইচ এম ভি-র পি কে সেন এবং গীতিকার পবিত্র মিত্র। তখন এইচ এম ভি-র সর্বময় কর্তা ছিলেন এই পি কে সেন আর গীতিকার পবিত্র মিত্র কোম্পানিতে বাংলা গানের সব কিছু দেখাশোনা করতেন। সেই সময় এইচ এম ভি-র তরফে বাংলা গান নিয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকত এই দুজনের ওপর।
লতা মঙ্গেশকর জীবনের প্রথম পুজোর বাংলা গানের জন্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছেছিলেন
দমদম এয়ারপোর্টে সকলের অগোচরে গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে লতা মঙ্গেশকর বললেন, ‘আমার জীবনের প্রথম পুজোর বাংলা গান রেকর্ড করব।’ সঙ্গীত সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে দেখা করতে বহু গুণীজন উপস্থিত হয়েছিলেন। লতাজি প্রত্যেককেই বলছিলেন, ‘কাল মহরত, পরশু ফিরে যাব।’ টানটান কর্ম ব্যস্ততা অথচ পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছেন, গান রেকর্ডিং করবেন। কিন্তু কি করে সেটা সম্ভব? রেকর্ডিঙের সময় কোথায়? পরদিন মহরত অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে পুলকবাবুকে ডাকলেন। বললেন, ‘সবাই জানে আমি হোটেলে আছি। আমি কিন্তু আছি ভূপেনদার টালিগঞ্জের গল্ফ ক্লাবের ফ্ল্যাটে। আপনি কাল সকালে চলে আসুন।’ এতক্ষণে পুলকবাবুর দুশ্চিন্তা কাটল। আগের দিন লতাজির প্রস্তাব শুনে বাঙালি গীতিকার বাবু তো প্রায় ভেবে বসেছিলেন যে সেটা নেহাত কথার কথা। বিখ্যাতরা তো ওরকম কথা বলেই থাকেন।
আরও পড়ুনঃ পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন
টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে পুলকবাবুকে দেখে লতা মঙ্গেশকর হাসতে হাসতে বলে ফেললেন, ‘জানেন তো এইচ এম ভি-র পি কে সেন কি বলেছিল?’ পুলকবাবু কিচ্ছু বুঝতে পারছেন না। তখন লতাজি খোলসা করে বললেন, ‘উনি তো রেকর্ডিঙে পবিত্রবাবুর কথা বলছিলেন। আমি আর ভুপেনদা দুজনেই বলেছি আপনার নাম।’ পুলকবাবু বিষয়টা বুঝলেন কিন্তু তাঁর খটকা তখন অন্য জায়গায়। লতাজিকে জানতে চাইলেন, ‘কিন্তু রেকর্ড করবেন কখন? আপনি তো আজই ফিরে যাবেন।’ লতাজি তখন আবার হাসতে হাসতে বললেন, ‘না, না আমি যাচ্ছি না। বুঝতেই পারছেন আমি থাকছি জানতে পারলে কলকাতার সব মিউজিক ডাইরেক্টর আর গীতিকার আমাকে গানের জন্য ধরবেন। কাকে ফেরাব বলুন! আপনার চিন্তা নেই। আমি রেকর্ডিং সেরে ফিরব।’ পুলকবাবু নিশ্চিন্ত হলেন।
লতাজির প্রথম পুজোর বাংলা গান ‘রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে’
এবার ভূপেন হাজারিকার কারণে পুলকবাবু পড়লেন বিপাকে। ভূপেনবাবু বললেন, ‘আমার কিন্তু সময় হবে না। তাছাড়া গানও তো তৈরি নেই।’ পুলকবাবু বললেন, ‘একটা গান তো আছে – মনে রেখো ওগো আধো চাঁদ’। কিছুক্ষণ থেমে ভূপেনবাবু বললেন, ‘আপনার লেখা ওই গানে সুর করেছিলাম, কিন্তু আমার তো একটুও মনে নেই। এখন যে বসব, তারই বা উপায় কোথায়? হারমোনিয়াম বিগড়েছে। সারাতে দিয়েছি, এখনও দিয়ে যায়নি।’ অগত্যা ভূপেনবাবুকে নিয়ে পুলকবাবু পৌঁছলেন তাঁর দিদির ভবানীপুরের বাড়িতে। ওখানে ‘মরশুমী ক্লাব’ নামে একটা ক্লাব ছিল। ভূপেনবাবু সে ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ক্লাবে উত্তমকুমার, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সুধীরলাল চক্রবর্তী প্রমুখ সবাই আসতেন।
ভূপেনবাবুকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য ছিল ক্লাবের হারমোনিয়ামে নতুন করে ‘মনে রেখো ওগো আধো চাঁদ’ গানটাতে সুর করানো। ভূপেনবাবু কিছুক্ষণ সুর নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘অসম্ভব। আর বসতে পারব না। আমার জরুরী অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। আমাকে বেরোতে হবে।’ পুলকবাবু কি আর করবেন? ভূপেনবাবুর সাথে তিনিও বেরিয়ে পড়লেন। দুজনে পৌঁছলেন চৌরঙ্গিতে। পুলকবাবু কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরে হাজির হলেন চাংহুয়া রেস্তোরাঁতে। শুনেছিলেন ভূপেনবাবু ওখানে আসতে পারেন। কপাল ভাল। ভূপেনবাবুকে পেয়েও গেলেন।
আসলে পুলকবাবুর ওখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ভূপেন হাজারিকার একটা অসমিয়া গানের সুরের ওপরে একটা বাংলা গান লেখা। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল নতুন গান তিনি তখনই লিখতে পারবেন এবং লতাজি গাইলে সে গান ভালই হবে। ভূপেনবাবু রাজি হলেন। এবার সমস্যা হল কাগজের। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পকেটে কলম আছে, দরকার শুধু একটা কাগজ, যার ওপর তিনি গান লিখবেন। শেষে রেস্তোরাঁর খাওয়ার বিলের ওপর লেখা হল গান – রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে। ভূপেন হাজারিকার সুরে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় লতা মঙ্গেশকর গাইলেন তাঁর জীবনের প্রথম পুজোর বাংলা গান।