Connect with us

সঙ্গীত

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে হয়েছিল

Published

on

একটি প্রশ্নের উত্তর পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরাগীদের এখনও তাড়া করে। প্রশ্নটা হল এই, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন? শুধু অনুরাগীতেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলা গানের অসংখ্য ভক্ত ও শ্রোতাদের কাছেও বিষয়টা এখনও রহস্যময়। ২রা মে তাঁর জন্মদিন। মান্না দে-র জন্মদিন ১লা মে। তার ঠিক পরের দিন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। যত দিন বেঁচে ছিলেন পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মান্না দে জুটির বাইরে বাংলা গানের কথা খুব কম ভাবা হত। এত প্রতিভাশীল গীতিকার বাংলা গানের জগতে খুব কম এসেছে।

পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিতে হয়েছিল, এটা একটা সর্বকালীন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে

শান্তিনিকেতনের ছাত্র, ছেলেটি শ্রীকান্তের ভূমিকায় অভিনয় করেছে একদিন বুঝতে পারল, এই যে এত গান চারপাশে শোনা যায়, সেসব কেউ না কেউ লিখেছে। আর পাঁচটা বাঙালি ছেলের মত এই ছেলেও কবিতা লেখেওদিকে বাবা কান্তিভূষণের কাছে ছেলেটি অর্গান বাজাতেও শিখেছে এবার তবে তো সে গানও লিখতে পারে। বেশ, তবে লেখা হোক গান। 

আরও পড়ুনঃ বাংলা গান হেমন্ত মুখোপাধ্যায় এবং রবীন্দ্রসঙ্গীত তিনটি এক সুরে বাঁধা…

রামচন্দ্র পাল ওরফে রামবাবু বোম্বের ডাকসাইটে সুরকার। শ্যালক যে গান লেখে, সেটা ভগ্নীপতি সরোজ মুখার্জি জানতে পারলেন। বললেন, ভাল গান লিখতে পারলে তাঁর ছবিতে সুযোগ দেবেন। শর্ত একটাই, গানের লেখা রামবাবুর পছন্দ হতে হবে। রাত জেগে লেখা হল গান তারপর সে গান ডাকে পাঠানো হল  বম্বে। একটার পর একটা দিন কাটে। বম্বে থেকে কোন খবর নেই। টেস্ট পরীক্ষার কয়েক দিন আগে, হঠাৎ ফোনে জরুরী তলব। হুকুম হল, পরদিন নলিনী সরকার স্ট্রীটে কলম্বিয়া স্টুডিওতে দেখা করতে হবে। দুরুদুরু বক্ষে, নবীন গীতিকার ঘরে ঢুকে পরিচয় দিলেন। সুরকার বললেন, তিনি নাকি সব গানে সুর করে ফেলেছেন এবং সেগুলো নাকি দেদার তারিফ পেয়েছে। আপত্তি শুধু একটাি গানে।

রামচন্দ্র পাল ওরফে রামবাবু বোম্বের ডাকসাইটে সুরকার পুলককে দেখে ভেবেছিলেন সে নিজে গান লেখেনি গান চুরি করেছে

তার জন্য তিনি অবশ্য একটি সুর ভেবেছেন। এখন গীতিকারকে তাতে শুধু কথা বসাতে হবে। তরুণ গীতিকার এই পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হলেন। মুক্তি পেল ছবি ‘অভিমান’সুরকার রামবাবু পরবর্তী কালে বলেছিলেন, গীতিকারের বয়স কম দেখে তাঁর ধারণা হয়েছিল, হতে পারে গানগুলি চুরি করা। গান বদলে তাই তিনি গীতিকারকে পরখ করতে চেয়েছিলেন 

হ্যাঁ, এভাবেই বাংলা তথা ভারতীয় আধুনিক গানের এক অনন্য সাধারণ প্রতিভা, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পথ চলা শুরু হয়েছিল। একের পর এক গান, হাওড়ার সালকিয়া হাউসে বসে লিখতে শুরু করলেন কপাল খারাপ! গানগুলি রেকর্ড করতে কেউ এগিয়ে আসে নানা ফিল্ম পরিচালক, না রেকর্ডিং কোম্পানি, ডাকে না কেউ। এক দিন, এলিট হল থেকে সিনেমা দেখে বেরোচ্ছেন, হঠাৎ পিছন থেকে নাম ধরে ডাকগাড়িতে বসে আছেন কালিদাস বটব্যাল। তিনিই  চিৎকার করে পুলককে ডাকছেন।বললেন, নতুন ছবি করবেন, নাম পলাতকানায়ক প্রদীপকুমার। পুলকের লেখা তাঁর খুব পছন্দ। তাঁর ইচ্ছে, এ ছবির গান লিখুক পুলক

ক্লাস ফাইভে কি সিক্সে পড়তে পড়তে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দমেলায় কবিতা লিখে পাঁচ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন

পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে জোর কদমে চলতে লাগল গান লেখা। পুলককে দিয়ে গান লেখাতে শুরু করেছেন, সতীনাথ থেকে শচীন গুপ্ত, সবাই। ভি বালসারার সুরে প্রথম বাংলা ছবি। সে ছবিতেও গীতিকার পুলক বাংলা ছবি যে বছর সবাক হল, সে বছর বৈশাখী পূর্ণিমায় গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম। যে সময়ে গান লিখতে এসেছিলেন, তখন লোকে রবীন্দ্রনাথের গানকে রবীন্দ্রসঙ্গীত আর দ্বিজেন্দ্রলাল, নজরুলের গানকে লোকে দ্বিজেন্দ্রগীতি-নজরুলগীতি বলতফাইভ-সিক্সে পড়তে পড়তে একবার স্বরচিত কবিতা পাঠিয়েছিলেন আনন্দমেলায়। কবিতা প্রকাশের খবর পেয়ে, আনন্দে আটখানা হয়ে কিনেছিলেন পাঁচ-পাঁচটা আনন্দবাজার পত্রিকা। পাঁচ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, মানি অর্ডারেসারা জীবন গান লিখে যাই প্রাপ্তি হোক, কোন কিছুই সেই পাঁচ টাকার বিকল্প হবে না

পুলকের মৃত্যুতে মান্না দে প্রবল ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন পুলকের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছিলেন না

কাছের মানুষরা বলেন, শেষ দিকে পুলকের বেঁচে থাকার ইচ্ছেটা ফুরিয়ে আসছিল। কোনও গান মনের মত হচ্ছিল না। আবার কেউ বলেন, পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় হতাশা আর অবসাদে ভুগতেন। পুলক চলে যাওয়ার পর তীব্র শোকে ভেঙে পড়েছিলেন মান্না দে। শোকে বিহ্বল মুহ্যমান মান্না দে লিখেছিলেন, পুলকের মতো জীবনরসিক লোক আত্মহত্যা করবে এটা আমার জীবনের সবচেয়ে অকল্পনীয় অনুভূতিগুলোর মধ্যে একটা।

এখন শুধু মনে হচ্ছে, বন্ধু, এত বড় ফাঁকি দিলে। আমার সঙ্গে ভাগ করে নিলে না তোমার যন্ত্রণা। ওর বাড়ির লোকের কাছে জানতে চাইব? কি এমন ঘটল যে, এত বড় জীবনরসিক মানুষটাকে নৌকো থেকে ঝাঁপ দিতে হল! কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেছিলেন, ‘ওই তো লিখেছিল, ‘ভাবি গঙ্গায় ঝাঁপ দিই’, তখন কি জানতাম! এটাই ছিল পুলকবাবুর মনের আসল কথা? ভবিতব্যকে পালটাতে পারতাম না জানিতবু বলতাম, অন্তত এটুকু বলে যান কেন এরকম দুঃখের ভার বয়ে বেড়িয়েছেন আপনি, দিনের পরদিন? কি ছিল আপনার দুঃখ?’

Continue Reading

বিনোদন

মোনালি বলেছিলেন তিনি বিবাহিত কিন্তু সত্যি কি তাই

Published

on

জন্ম ০৩ নভেম্বর ১৯৮৫

কলকাতা পশ্চিমবঙ্গ ভারত

পিতা শক্তি ঠাকুর

মাতা মিনতি ঠাকুর

দিদি মেহুলি ঠাকুর

জীবন সঙ্গী মাইখ রিখটার (অসমর্থিত)

সাল ২০২০। একটি জনপ্রিয় সর্ব ভারতীয় সংবাদপত্রের পাতা। সে পাতায় ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। ২০২০ সালে প্রকাশিত সেই সাক্ষাৎকারে মোনালি স্বীকার করেছিলেন যে তিনি বিবাহিত। তার তিন বছর আগে অর্থাৎ ২০১৭ সালে তিনি নাকি বিয়ে করেছেন। পাত্র এক সুইডিশ রেস্তোরাঁ মালিক। নাম মাইক রিখটার।

২০১৭ থেকে ২০২০। তিন বছর মোনালি তাঁর বিয়ে গোপন করেছিলেন। না কোন সংবাদ মাধ্যম। না কোন সমাজ মাধ্যম। কোথাও প্রকাশিত হয়নি মোনালির বিয়ের খবর। বিয়ের আংটি কখনও ভুলবশত ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ছবিতে দেখা যেত। তার থেকে অনেকে মোনালির বিয়ের খবর জানতে উৎসুক থাকতেন। কিন্তু মাইক এবং মোনালি দুজনেই অত্যন্ত সফল ভাবে তাঁদের বিয়ের খবর গোপন রেখেছিলেন।

আরও পড়ুন: টিভি থেকে সিনেমা এবং রাজনীতি চিরঞ্জিত সবেতে সফল

এবার আসা যাক আর একটি জনপ্রিয় বাংলা সংবাদপত্রের প্রসঙ্গে। তারিখ ১ আগস্ট ২০১৭। সেখানেও ছাপা হয়েছিল মোনালির একটি সাক্ষাৎকার। শুরুতে বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। কিন্তু মোনালি বিয়ের খবর অস্বীকার করেছেন। বলেছিলেন, ‘বিয়ে নিয়ে এত বাড়াবাড়ির কি আছে? বিয়ে হলে জানাবেন।’ এমন কি বয়ফ্রেণ্ডের নাম পর্যন্ত বলতে চাননি। কেন এত গোপনীয়তা, সেটা মোনানিই বলতে পারবেন।

মোনালি শক্তি ঠাকুরের ছোট মেয়ে। জন সমক্ষে প্রথম আবির্ভাব গায়িকা রূপে। অভিনয় তার পরে। বাংলা টেলিভিশন ধারাবাহিক ‘আলোকিত এক ইন্দু’তে প্রথম অভিনয়। মুখ্য চরিত্র ইন্দুবালার ভূমিকায়।  এরপর অভিনয় করেছেন আরও দু-একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে। এক দিন রাজা সেন প্রস্তাব দিলেন তাঁর ছবিতে অভিনয়ের জন্য। ছবির নাম ‘কৃষ্ণকান্তের উইল।’ মোনালিকে, রাজা সেন ভ্রমরের চরিত্রে ভেবেছিলেন।

Continue Reading

সঙ্গীত

লতাজির প্রথম পুজোর বাংলা গানের জন্ম রেস্তোরাঁয়

Published

on

জন্ম: ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯২৯

ইন্দোর, (বর্তমান মধ্যপ্রদেশ), ভারত

মৃত্যু: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

মুম্বই, মহারাষ্ট্র, ভারত

হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ঠিক করলেন মহাদেবি ভার্মার লেখা ছোট গল্প ‘চিনি ফেরিওয়ালা’ নিয়ে ছবি করবেন। ‘হেমন্ত বেলা প্রোডাকশন’ ব্যানারে ছবির নাম ঠিক হল ‘নীল আকাশের নীচে’। নায়ক উত্তমকুমার এবং পরিচালক ভূপেন হাজারিকা। পরে অবশ্য পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন মৃণাল সেন এবং উত্তমকুমারের বদলে নায়ক হয়েছিলেন কালী বন্দ্যোপাধ্যায়। মহরতে ক্ল্যাপস্টিক দিতে লতা মঙ্গেশকর কলকাতায় এলেন। লতাজিকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে অনেকের মধ্যে হাজির হয়েছিলেন এইচ এম ভি-র পি কে সেন এবং গীতিকার পবিত্র মিত্র। তখন এইচ এম ভি-র সর্বময় কর্তা ছিলেন এই পি কে সেন আর গীতিকার পবিত্র মিত্র কোম্পানিতে বাংলা গানের সব কিছু দেখাশোনা করতেন। সেই সময় এইচ এম ভি-র তরফে বাংলা গান নিয়ে যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব থাকত এই দুজনের ওপর।

লতা মঙ্গেশকর জীবনের প্রথম পুজোর বাংলা গানের জন্য পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছেছিলেন

দমদম এয়ারপোর্টে সকলের অগোচরে গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ডেকে লতা মঙ্গেশকর বললেন, ‘আমার জীবনের প্রথম পুজোর বাংলা গান রেকর্ড করব।’ সঙ্গীত সম্রাজ্ঞীর সঙ্গে দেখা করতে বহু গুণীজন উপস্থিত হয়েছিলেন। লতাজি প্রত্যেককেই বলছিলেন, ‘কাল মহরত, পরশু ফিরে যাব।’ টানটান কর্ম ব্যস্ততা অথচ পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলেছেন, গান রেকর্ডিং করবেন। কিন্তু কি করে সেটা সম্ভব? রেকর্ডিঙের সময় কোথায়? পরদিন মহরত অনুষ্ঠানের এক ফাঁকে পুলকবাবুকে ডাকলেন। বললেন, ‘সবাই জানে আমি হোটেলে আছি। আমি কিন্তু আছি ভূপেনদার টালিগঞ্জের গল্ফ ক্লাবের ফ্ল্যাটে। আপনি কাল সকালে চলে আসুন।’ এতক্ষণে পুলকবাবুর দুশ্চিন্তা কাটল। আগের দিন লতাজির প্রস্তাব শুনে বাঙালি গীতিকার বাবু তো প্রায় ভেবে বসেছিলেন যে সেটা নেহাত কথার কথা। বিখ্যাতরা তো ওরকম কথা বলেই থাকেন।

আরও পড়ুনঃ পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন

টালিগঞ্জের ফ্ল্যাটে পুলকবাবুকে দেখে লতা মঙ্গেশকর হাসতে হাসতে বলে ফেললেন, ‘জানেন তো এইচ এম ভি-র পি কে সেন কি বলেছিল?’ পুলকবাবু কিচ্ছু বুঝতে পারছেন না। তখন লতাজি খোলসা করে বললেন, ‘উনি তো রেকর্ডিঙে পবিত্রবাবুর কথা বলছিলেন। আমি আর ভুপেনদা দুজনেই বলেছি আপনার নাম।’ পুলকবাবু বিষয়টা বুঝলেন কিন্তু তাঁর খটকা তখন অন্য জায়গায়। লতাজিকে জানতে চাইলেন, ‘কিন্তু রেকর্ড করবেন কখন? আপনি তো আজই ফিরে যাবেন।’ লতাজি তখন আবার হাসতে হাসতে বললেন, ‘না, না আমি যাচ্ছি না। বুঝতেই পারছেন আমি থাকছি জানতে পারলে কলকাতার সব মিউজিক ডাইরেক্টর আর গীতিকার আমাকে গানের জন্য ধরবেন। কাকে ফেরাব বলুন! আপনার চিন্তা নেই। আমি রেকর্ডিং সেরে ফিরব।’ পুলকবাবু নিশ্চিন্ত হলেন।

লতাজির প্রথম পুজোর বাংলা গান ‘রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে’

এবার ভূপেন হাজারিকার কারণে পুলকবাবু পড়লেন বিপাকে। ভূপেনবাবু বললেন, ‘আমার কিন্তু সময় হবে না। তাছাড়া গানও তো তৈরি নেই।’ পুলকবাবু বললেন, ‘একটা গান তো আছে – মনে রেখো ওগো আধো চাঁদ’। কিছুক্ষণ থেমে ভূপেনবাবু বললেন, ‘আপনার লেখা ওই গানে সুর করেছিলাম, কিন্তু আমার তো একটুও মনে নেই। এখন যে বসব, তারই বা উপায় কোথায়? হারমোনিয়াম বিগড়েছে। সারাতে দিয়েছি, এখনও দিয়ে যায়নি।’ অগত্যা ভূপেনবাবুকে নিয়ে পুলকবাবু পৌঁছলেন তাঁর দিদির ভবানীপুরের বাড়িতে। ওখানে ‘মরশুমী ক্লাব’ নামে একটা ক্লাব ছিল। ভূপেনবাবু সে ক্লাবের সদস্য ছিলেন। ক্লাবে উত্তমকুমার, কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সুধীরলাল চক্রবর্তী প্রমুখ সবাই আসতেন।

ভূপেনবাবুকে নিয়ে আসার উদ্দেশ্য ছিল ক্লাবের হারমোনিয়ামে নতুন করে ‘মনে রেখো ওগো আধো চাঁদ’ গানটাতে সুর করানো। ভূপেনবাবু কিছুক্ষণ সুর নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘অসম্ভব। আর বসতে পারব না। আমার জরুরী অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে। আমাকে বেরোতে হবে।’ পুলকবাবু কি আর করবেন? ভূপেনবাবুর সাথে তিনিও বেরিয়ে পড়লেন। দুজনে পৌঁছলেন চৌরঙ্গিতে। পুলকবাবু কিছুক্ষণ এদিক-ওদিক ঘুরে হাজির হলেন চাংহুয়া রেস্তোরাঁতে। শুনেছিলেন ভূপেনবাবু ওখানে আসতে পারেন। কপাল ভাল। ভূপেনবাবুকে পেয়েও গেলেন।

আসলে পুলকবাবুর ওখানে যাওয়ার উদ্দেশ্য ছিল ভূপেন হাজারিকার একটা অসমিয়া গানের সুরের ওপরে একটা বাংলা গান লেখা। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃঢ় বিশ্বাস ছিল নতুন গান তিনি তখনই লিখতে পারবেন এবং লতাজি গাইলে সে গান ভালই হবে। ভূপেনবাবু রাজি হলেন। এবার সমস্যা হল কাগজের। পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পকেটে কলম আছে, দরকার শুধু একটা কাগজ, যার ওপর তিনি গান লিখবেন। শেষে রেস্তোরাঁর খাওয়ার বিলের ওপর লেখা হল গান – রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে। ভূপেন হাজারিকার সুরে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় লতা মঙ্গেশকর গাইলেন তাঁর জীবনের প্রথম পুজোর বাংলা গান।

Continue Reading

সঙ্গীত

লতাজিকে সরিয়ে বছর দুয়েক বলিউডের শীর্ষে ছিলেন

Published

on

শুভ জন্মদিন! আশা ভোঁসলে!

পড়ুন: লতা মঙ্গেশকরের প্রথম বাংলা গান ‘রঙ্গিলা বাঁশিতে কে ডাকে’ লেখা হয়েছিল একটি রেস্তোরাঁয়

Continue Reading